মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩১st জুলাই ২০২১

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান

ভাষণ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা

জাতীয় প্যারেড স্কয়ার, ঢাকা, বুধবার, ০৩ চৈত্র ১৪২৭, ১৭ মার্চ ২০২১

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মোঃ আবদুল হামিদ, মালদ্বীপের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ, বাংলাদেশের ফার্স্টলেডি এবং মালদ্বীপের ফার্স্টলেডি, সহকর্মীবৃন্দ, জাতীয় অধ্যাপক আমার শিক্ষক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, আমার আদরের ছোট বোন রেহানা, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, সমবেত সুধীমন্ডলী এবং আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন এবং বাংলাদেশের জনগণ এখানে যারা উপস্থিত এবং যারা উপস্থিত নেই সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রবাসে সকলকেই আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, আসসালামু আলাইকুম।

আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ একটি দিন, গুরুত্বপূর্ণ দিন ১৭ই মার্চ। ১৯২০ সালের এই দিনে বাংলাদেশের এক নিভৃত পল্লী টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়েছিল এক শিশু, পিতা শেখ লুৎফর রহমান, মাতা শেখ সায়রা খাতুনের কোলে। টুঙ্গিপাড়া গ্রামকে আলোকিত করে যে শিশু এই ধরিত্রীতে আগমণ করেছিল, সেই শিশুই আলো জ্বালিয়েছিল বাঙালি নামের এক জনগোষ্ঠীর জীবনে, এনে দিয়েছিল স্বাধীনতা। ১৭ই মার্চ আমরা প্রতিবছর জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করি। তাই শিশু দিবসের প্রতিটি শিশুর জন্য আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। এ বছর আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূরণ হচ্ছে। আমরা মুজিব বর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী একযোগে উদ্‌যাপন করছি। ‘মুজিব চিরন্তন’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ১৭ই মার্চ থেকে ২৬শে মার্চ পর্যন্ত আমরা দেশে এবং বিদেশে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আজ তার সূচনা পর্ব। তবে আমাদের উৎসব ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত, ১৬ই ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্তই চলতে থাকবে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী। কারণ ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিবস। সেই বিজয় দিবস পর্যন্তই সারা বাংলাদেশ থাকবে উৎসবমুখর। বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আজকের এই সূচনা পর্বে এখানে দু’টি পর্ব, প্রথম- আমাদের এই আলোচনা অনুষ্ঠান এবং এর পরে দ্বিতীয় পর্ব হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজকের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমি মালদ্বীপের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ এবং ফার্স্টলেডিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভ্রাতৃপ্রতীম মালদ্বীপের জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।

চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা বাংলাদেশের জনগণের শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়েছেন। আমি দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। চীন, কানাডা, জাপানের জনগণের প্রতিও আমার দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং ফার্স্টলেডিকেও আমার ধন্যবাদ।

বিশিষ্ট সাংবাদিক মার্ক টালি তিনিও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন, তাকেও আমি আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এছাড়াও আরো অনেক সরকার প্রধান, রাষ্ট্র প্রধান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আরো অনেক বিশিষ্ট জন বিভিন্ন বার্তা পাঠিয়েছেন। আমাদের প্রতিদিন যে অনুষ্ঠানমালা চলবে আমরা একে-একে সকলের বার্তাগুলি এখানে উপস্থাপন করব।

আমি আজকের দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি, ৩০ লক্ষ শহিদের প্রতি, দু’লক্ষ মা-বোনের প্রতি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই আমার সশ্রদ্ধ সালাম।

মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে তিনি যাত্রা শুরু করেন, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট নির্মমভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হ’ল। আর সেই সাথে আমি আমার ছোট বোন ছাড়া আমাদের পরিবারের সকল সদস্যকে, আমি আজকের দিনে ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে নিহত আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, আমার তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল ও ১০ বছরের ছোট্ট শিশু ভাই শেখ রাসেল, দুই ভ্রাতৃবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা শেখ আবু নাসেরসহ ১৫ই আগস্ট যারা শাহাদাত বরণ করেছেন আজকের দিনে আমি তাদেরকেও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

সুধীবৃন্দ,

বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ থেকে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। আর সেই সংগ্রামের পথ বেয়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা, স্বাধীন রাষ্ট্র, স্বাধীন জাতির মর্যাদা। একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ তার উপর শত শত বছরের পরাধীনতার গ্লানি। শোষণ, বঞ্চনা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য পীড়িত মানুষের এক জনপদকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার মত কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে। অসাধ্য সাধন করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং যুদ্ধ পরবর্তী দেশ গড়ার কাজে যে সকল বন্ধু প্রতীম দেশ এবং নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আমাদের সাহায্য করেছিলেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অনেক স্বপ্ন ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই বাংলাদেশকে নিয়ে। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ, সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট আমাদের কাছ থেকে তাঁকে কেড়ে নেয় ’৭৫ এর ১৫ই আগস্ট। এরপর অনেক সংগ্রামের পথ বেয়ে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

সুধীবৃন্দ,

বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক্ষার প্রহরের আজ অবসান হতে চলেছে। আজ এমন এক সময় আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন করছি যখন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মর্যাদাশীল উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। মাথাপিছু আয় সম্মানজনক ২ হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে, দারিদ্র্যের হার ২০.৫ ভাগে হ্রাস পেয়েছে, দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জন করেছে। মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে, আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জনগণের ঐকান্তিক পরিশ্রমের ফসল আজকের এই প্রাপ্তি। আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তারা আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলে।

আজকের বাংলাদেশ যে অবস্থানে পৌঁছেছে সেখান থেকে তাকে সহজে অবনমন করা বা নামানো যাবে না। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ আমরা এই করোনা ভাইরাস মহামারির অভিঘাত সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বাংলাদেশ বিরোধী অপশক্তি এখনো দেশে-বিদেশে সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে এ অর্জনকে নস্যাৎ করতে চায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব -এর শুভ জন্মদিনে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপতৎপরতা প্রতিহত করে প্রিয় মাতৃভূমিকে উন্নয়ন, অগ্রগতির পথ ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি। এখন শুধু আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা, পিছনে ফিরে তাকানোর কোন সুযোগ নেই। সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এদেশকে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনা মুক্ত, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ্। এটাই আজকের দিনে আমাদের প্রতীজ্ঞা।

আমি আজকের এই আয়োজন করবার জন্য সকলকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা দিনরাত পরিশ্রম করে আমাদের এই আয়োজনকে সফল করেছেন। আমি বিদায়ের আগে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে চাই,

চলো যাই, চলো, যাই চলো, যাই-

চলো পদে পদে সত্যের ছন্দে

চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে!

চলো মুক্তিপথে,

চলো বিঘ্নবিপদজয়ী মনোরথে

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন পূরণে। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

খোদা হাফেজ।

...


Share with :

Facebook Facebook